Posts

বিদায় বেলায় কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 তুমি অমন ক’রে গো বারে বারে জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না,   জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না।   ঐ কাতর কন্ঠে থেকে থেকে শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না,   শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না।।   হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার সারা জীবনের বেদনা,   আজো তবে শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না।   ঐ ব্যথাতুর আঁখি কাঁদো-কাঁদো মুখ   দেখি আর শুধু হেসে যাও,আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না।   চলার তোমার বাকী পথটুকু-   পথিক! ওগো সুদূর পথের পথিক-   হায়, অমন ক’রে ও অকর”ণ গীতে আঁখির সলিলে ছেয়ো না,   ওগো আঁখির সলিলে ছেয়ো না।।        দূরের পথিক! তুমি ভাব বুঝি   তব ব্যথা কেউ বোঝে না,   তোমার ব্যথার তুমিই দরদী একাকী,   পথে ফেরে যারা পথ-হারা,   কোন গৃহবাসী তারে খোঁজে না,   বুকে ক্ষত হ’য়ে জাগে আজো সেই ব্যথা-লেখা কি?   দূর বাউলের গানে ব্যথা হানে বুঝি শুধু ধূ-ধূ মাঠে পথিকে?   এ যে মিছে অভিমান পরবাসী! দেখে ঘর-বাসীদের ক্ষতিকে!   তবে জান কি তোমার বিদায়- কথায়   কত বুক-ভাঙা গোপন ব্যথায়   আজ কতগুলি প্রাণ কাঁদিছে কোথায়-   পথিক...

মানুষ কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 গাহি সাম্যের গান-  মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান। নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,  সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।  ‘পূজারী, দুয়ার খোল,  ক্ষুদার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’  স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়  দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!  জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুদায় কন্ঠ ক্ষীণ  ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি তো সাত দিন!’  সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,  তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুদার মানিক জ্বলে!  ভুখারী ফুকারি’ কয়,  ‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’  মসজিদে কাল শিরনী আছিল, অঢেল গোস্ত রুটি  বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি!  এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে-আজারির চিন্  বলে ‘বাবা, আমি ভুকা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!’  তেরিয়াঁ হইয়া হাঁকিল মোল্লা – ভ্যালা হ’ল দেখি লেঠা,  ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নামাজ পড়িস বেটা?  ভুখারী কহিল, ‘না বাবা!’ মোল্লা হাঁকিল – তা’ হলে শালা  সোজা পথ দেখ!’ গোস্...

মুনাজাত কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 আমারে সকল ক্ষুদ্রতা হতে  বাঁচাও প্রভু উদার।  হে প্রভু! শেখাও -নীচতার চেয়ে  নীচ পাপ নাহি আর।  যদি শতেক জন্ম পাপে হই পাপী,  যুগ-যুগান্ত নরকেও যাপি,  জানি জানি প্রভু, তারও আছে ক্ষমা-  ক্ষমা নাহি নীচতার।।  ক্ষুদ্র করো না হে প্রভু আমার  হৃদয়ের পরিসর,  যেন সম ঠাঁই পায়  শত্রু-মিত্র-পর।  নিন্দা না করি ঈর্ষায় কারো  অন্যের সুখে সুখ পাই আরো,  কাঁদি তারি তরে অশেষ দুঃখী  ক্ষুদ্র আত্মা তার।

পুরাতন ভৃত্য কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর— যা‐কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, “কেষ্টা বেটাই চোর।” উঠিতে বসিতে করি বাপান্ত, শুনেও শোনে না কানে। যত পায় বেত না পায় বেতন, তবু না চেতন মানে। বড়ো প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ চীৎকার করি “কেষ্টা”— যত করি তাড়া নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা। তিনখানা দিলে একখানা রাখে, বাকি কোথা নাহি জানে; একখানা দিলে নিমেষ ফেলিতে তিনখানা করে আনে। যেখানে সেখানে দিবসে দুপুরে নিদ্রাটি আছে সাধা; মহাকলরবে গালি দেই যবে “পাজি হতভাগা গাধা”— দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সে হাসে, দেখে জ্বলে যায় পিত্ত। তবু মায়া তার ত্যাগ করা ভার— বড়ো পুরাতন ভৃত্য। ঘরের কর্ত্রী রুক্ষমূর্তি বলে, “আর পারি নাকো, রহিল তোমার এ ঘর‐দুয়ার, কেষ্টারে লয়ে থাকো। না মানে শাসন বসন বাসন অশন আসন যত কোথায় কী গেল, শুধু টাকাগুলো যেতেছে জলের মতো। গেলে সে বাজার সারা দিনে আর দেখা পাওয়া তার ভার— করিলে চেষ্টা কেষ্টা ছাড়া কি ভৃত্য মেলে না আর!” শুনে মহা রেগে ছুটে যাই বেগে, আনি তার টিকি ধরে; বলি তারে, “পাজি, বেরো তুই আজই, দূর করে দিনু তোরে।” ধীরে চলে যায়, ভাবি গেল দায়; পরদিনে উঠে দেখি, হুঁকাটি বাড়ায়ে রয়েছে দাঁড়...

দুর্ভাগা দেশ কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।  মানুষের অধিকারে  বঞ্চিত করেছ যারে, সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান। মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।  বিধাতার রুদ্ররোষে  দুর্ভিক্ষের-দ্বারে বসে ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান। অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান। তোমার আসন হতে যেথায় তাদের দিলে ঠেলে সেথায় শক্তিরে তব নির্বাসন দিলে অবহেলে।  চরণে দলিত হয়ে  ধূলায় সে যায় বয়ে - সেই নিম্নে নেমে এসো, নহিলে নাহি রে পরিত্রাণ। অপমানে হতে হবে আজি তোরে সবার সমান। যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে, পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।  অজ্ঞানের অন্ধকারে  আড়ালে ঢাকিছ যারে তোমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘোর ব্যবধান। অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান। শতেক শতাব্দী ধরে নামে শিরে অসম্মানভার, মানুষের নারায়ণে তবুও কর না নমস্কার।  তবু নত করি আঁখি  দেখিবার পাও না কি নেমেছে ধূলার তলে হীনপতিতের ভগবান। অপমানে হতে হবে সে...

কৃষ্ণকলি কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি,   কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক। মেঘলাদিনে দেখেছিলেম মাঠে   কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ। ঘোমটা মাথায় ছিলনা তার মোটে,  মুক্তবেণী পিঠের 'পরে লোটে।  কালো? তা সে যতই কালো হোক,   দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ। ঘন মেঘে আঁধার হল দেখে   ডাকতেছিল শ্যামল দুটি গাই, শ্যামা মেয়ে ব্যস্ত ব্যাকুল পদে   কুটির হতে ত্রস্ত এল তাই। আকাশ-পানে হানি যুগল ভুরু  শুনলে বারেক মেঘের গুরুগুরু।  কালো? তা সে যতই কালো হোক,   দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ। পূবে বাতাস এল হঠাত্‍‌ ধেয়ে,  ধানের ক্ষেতে খেলিয়ে গেল ঢেউ। আলের ধারে দাঁড়িয়েছিলেম একা,  মাঠের মাঝে আর ছিল না কেউ। আমার পানে দেখলে কিনা চেয়ে, আমি জানি আর জানে সেই মেয়ে।  কালো? তা সে যতই কালো হোক,  দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ। এমনি করে কাজল কালো মেঘ   জ্যৈষ্ঠমাসে আসে ঈশান কোণে। এমনি করে কালো কোমল ছায়া  আষাঢ় মাসে নামে তমাল-বনে। এমনি করে শ্রাবণ-রজনীতে হঠাত্‍‌ খুশি ঘনিয়ে আসে চিতে।  কালো? তা সে যতই কালো হোক,  দেখেছি তার কালো হরিণ-...

বর্ষার দিনে কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায় ! এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে তপনহীন ঘন তমসায় । সে কথা শুনিবে না কেহ আর , নিভৃত নির্জন চারি ধার | দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখী, আকাশে জল ধরে অনিবার।  জগতে কেহ যেন নাহি আর । সমাজ সংসার মিছে সব, মিছে এ জীবনের কলরব। কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব । আঁধারে মিশে গেছে আর সব । বলিতে বাজিবে না নিজ কানে, চমক লাগিবে না নিজ প্রাণে।  সে কথা আঁখিনীরে মিশিয়া যাবে ধীরে এ ভরা বাদলের মাঝখানে।  সে কথা মিশে যাবে দুটি প্রাণে । তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার নামাতে পারি যদি মনোভার ? শ্রাবণবরিষণে একদা গৃহকোণে দুকথা বলি যদি কাছে তার তাহাতে আসে যাবে কিবা কার ? আছে তো তার পরে বারো মাস, উঠিবে কত কথা কত হাস । আসিবে কত লোক কত-না দুখশোক, সে কথা কোন্ খানে পাবে নাশ । জগৎ চলে যাবে বারো মাস।  ব্যাকুল বেগে আজি বহে যায়, বিজুলি থেকে থেকে চমকায়  যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে সে কথা আজি যেন বলা যায় এমন ঘনঘোর বরিষায়। 

বধূ কবিতা - রবীন্দনাথ ঠাকুর

 ‘বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল্ !’---- পুরানো সেই সুরে কে যেন ডাকে দূরে, কোথা সে ছায়া সখী, কোথা সে জল ! কোথা সে বাঁধা ঘাট, অশথতল ! ছিলাম আনমনে একেলা গৃহকোণে, কে যেন ডাকিল রে ‘জলকে চল্’ | কলসী লয়ে কাঁখে---- পথ সে বাঁকা, বামেতে মাঠ শুধু সদাই করে ধূ ধূ, ডাহিনে বাঁশবন হেলায়ে শাখা | দিঘির কালো জলে সাঁঝের আলো জ্বলে, দুধারে ঘন বন ছায়ায় ঢাকা | গভীর থির নীরে ভাসিয়া যাই ধীরে, পিক কুহরে তীরে অমিয়-মাখা | পথে আসিতে ফিরে, আঁধার তরুশিরে সহসা দেখি চাঁদ আকাশে আঁকা | অশথ উঠিয়াছে প্রাচীর টুটি, সেখানে ছুটিতাম সকালে উঠি | শরতে ধরাতল শিশিরে ঝলমল, করবী থোলো থোলো রয়েছে ফুটি | প্রাচীর বেয়ে বেয়ে সবুজে ফেলে ছেয়ে বেগুনি-ফুলে-ভরা লতিকা দুটি | ফাটলে দিয়ে আঁখি আড়ালে বসে থাকি, আঁচল পদতলে পড়েছে লুটি | মাঠের পর মাঠ, মাঠের শেষে সুদূর গ্রামখানি আকাশে মেশে | এ ধারে পুরাতন শ্যামল তালবন সঘন সারি দিয়ে দাঁড়ায় ঘেঁষে | বাঁধের জলরেখা ঝলসে যায় দেখা, জটলা করে তীরে রাখাল এসে | চলেছে পথখানি কোথায় নাহি জানি , কে জানে কত শত নূতন দেশে | হায় রে রাজধানী পাষাণকায়া ! বিরাট মুঠিতলে চাপিছে দৃঢ়বলে ব্যাকুল বালিকারে, নাহিকো মায়া | কোথা সে খ...

জাতীয় সংগীত

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি। ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে, মরি হায়, হায় রে ও মা, অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি। কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে। মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো, মরি হায়, হায় রে মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি।

দুরন্ত আশা কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 মর্মে যবে মত্ত আশা      সর্পসম ফোঁসে, অদৃষ্টের বন্ধনেতে      দাপিয়ে বৃথা রোষে, তখনো ভালোমানুষ সেজে বাঁধানো হুঁকা যতনে মেজে মলিন তাস সজোরে ভেঁজে      খেলিতে হবে কষে! অন্নপায়ী বঙ্গবাসী      স্তন্যপায়ী জীব জন-দশেকে জটলা করি      তক্তপোশে ব’সে। ভদ্র মোরা, শান্ত বড়ো,      পোষ-মানা এ প্রাণ বোতাম-আঁটা জামার নীচে      শান্তিতে শয়ান। দেখা হলেই মিষ্ট অতি মুখের ভাব শিষ্ট অতি, অলস দেহ ক্লিষ্টগতি—      গৃহের প্রতি টান। তৈল-ঢালা স্নিগ্ধ তনু      নিদ্রারসে ভরা, মাথায় ছোটো বহরে বড়ো      বাঙালি সন্তান। ইহার চেয়ে হতেম যদি      আরব বেদুইন! চরণতলে বিশাল মরু      দিগন্তে বিলীন। ছুটেছে ঘোড়া, উড়েছে বালি, জীবনস্রোত আকাশে ঢালি হৃদয়তলে বহ্নি জ্বালি      চলেছি নিশিদিন। বর্শা হাতে, ভর্‌সা প্রাণে,      সদাই নিরুদ্দেশ, মরুর ঝড় যেমন বহে      সকল বাধাহীন। বিপদ-মাঝে ঝাঁপায়ে প’ড়ে...

বঙ্গভাষা কবিতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত

 হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;- তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি। কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি। অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ, মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;- কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন! স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে- "ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি, এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি? যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!'' পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে।

আট বছর আগে একদিন - জীবনানন্দ দাস

 শোনা গেল লাশকাটা ঘরে নিয়ে গেছে তারে; কাল রাতে ফাল্গুনের রাতের আঁধারে যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ মরিবার হল তার সাধ। বধু শুয়ে ছিল পাশে-শিশুটিও ছিল; প্রেম ছিল, আশা ছিল জোছনায় তবু সে দেখিল কোন্ ভূত? ঘুম কেন ভেঙে গেল তার? অথবা হয় নি ঘুম বহুকাল- লাশকাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার। এই ঘুম চেয়েছিল বুঝি! রক্তফেনামাখা মুখে মড়কের ইঁদুরের মতো ঘাড় গুঁজি আঁধার ঘুঁজির বুকে ঘুমায় এবার কোনোদিন জাগিবে না আর। ‘কোনদিন জাগিবে না আর জানিবার গাঢ় বেদনার অবিরাম অবিরাম ভার সহিবে না আর-’ এই কথা বলেছিল তারে চাঁদ ডুবে চলে গেলে অদ্ভুত আঁধারে যেন তার জানালার ধারে উটের গ্রীবার মতো কোনো এক নিস্তব্ধতা এসে। তবুও তো পেঁচা জাগে; গলিত স্থবির ব্যাঙ আরো দুই মুহূর্তের ভিক্ষা মাগে আরেকটি প্রভাতের ইশারায়–অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে। টের পাই যূথচারী আঁধারের গাঢ় নিরুদ্দেশে চারি দিকে মশারির ক্ষমাহিন বিরুদ্ধতা; মশা তার অন্ধকার সঙ্ঘারামে জেগে থেকে জীবনের স্রোতে ভালোবাসে। রক্ত ক্লেদ বসা থেকে রৌদ্রে ফের উড়ে যায় মাছি; সোনালি রোদের ঢেউয়ে উড়ন্ত কীটের খেলা কত দেখিয়াছি। ঘনিষ্ঠ আকাশ যেন কোন্ বিকীর্ণ জীবন অধিকার করে আছে ইহাদের মন: দুরন্ত শিশুর হাতে ...