Posts

Showing posts from November, 2020

কাঠবিড়ালী কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

Image
 

পুঁটু নাচে - ছড়া ||কবিতার জগৎ

Image
 

সফ্দার ডাক্তার - ছড়া || কবিতার জগৎ

Image
 

আতা গাছে তোতাপাখি - ছড়া || কবিতার জগৎ

Image
 

চাঁদ মামা - ছড়া || কবিতার জগৎ

Image
 

আয়রে আয় মিনি - ছড়া || kobitarjagot

Image
 

খোকা গেছে মাছ ধরতে - ছড়া ||কবিতার জগৎ

Image
 

মোরগ ডাকে - ছড়া || কবিতার জগৎ

Image
 

খোকন খোকন ময়না - ছড়া ||কবিতার জগৎ

Image
 

আয়রে আয় টিয়ে - ছড়া |কবিতার জগৎ kobitarjagot

Image
 

আসে তেড়ে - ছড়া ||কবিতার জগৎ

Image
 

আইকম্ বাইকম্ - ছড়া ||কবিতার জগৎ

Image
 

কুকুর বাজায় টুমটুম - ছড়া || কবিতার জগৎ

Image
 

আয়রে পাখি - ছড়া ||কবিতার জগৎ

Image
 

পারিব না এ কথাটি বলিও না আর ||কবিতার জগৎ

Image
 

শিশুর পণ- সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি

Image
 

প্রভাত - কবিতা | kobitarjagot কবিতার জগৎ

Image
 

বড় কে - কবিতা | kobitarjagot কবিতার জগৎ

Image
 

প্রার্থনা কবিতা - সুফিয়া কামাল ||kobitarjagot কবিতার জগৎ

Image
 

ছুটি কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Image
 

আদর্শ ছেলে - কবিতা

Image
 

ট্রেন কবিতা - শামসুর রাহমান

Image
 

আমাদের গ্রাম কবিতা - বন্দে আলি মিঞা

Image
 

ছোটন ঘুমায় -ছড়া ||কবিতার জগৎ kobitarjagot

Image
 

আম পাতা জোড়া জোড়া -ছড়া ||কবিতার জগৎ kobitarjagot

Image
 

খোকন খোকন করে মায় -ছড়া ||কবিতার জগৎ kobitarjagot.bblogspot.com

Image
 

বাক বাকুম পায়রা ছড়া - রোকনুজ্জামান খাঁন

Image
 

আমি হব কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

Image
 

হাট টিমা টিম টিম ছড়া kobitarjagot.blogspot.com

Image
 

আমাদের ছোট নদী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Image
 

নোটন নোটন পায়রাগুলি ছড়া kobitarjagot.blogspot.com

Image
 

ভোর হলো কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

Image
 

তাই তাই তাই ছড়া kobitarjagot.blogspot.com

Image
 

কানাবগির ছা কবিতা - খাঁন মুহম্মদ মঈনুদ্দীন

Image
 

মামার বাড়ি - জসীম উদ্দীন

Image
 

খোকন খোকন ডাক পাড়ি kobitarjagot.blogspot.com

Image
 খোকন খোকন ডাক পাড়ি খোকন মোদের কার বাড়ি? আয় রে খোকন ঘরে আয়, দুধমাখা ভাত কাকে খায়।

বিজয়িনী কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 হে মোর রাণি!    তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে।    আমার বিজয়-কেতন লুটায় তোমার চরণ-তলে এসে।    আমার সমর-জয়ী অমর তরবারী    দিনে দিনে ক্লানি- আনে, হ’য়ে ওঠে ভারী,    এখন এ ভার আমার তোমায় দিয়ে হারি,    এই হার-মানা-হার পরাই তোমার কেশে।।        ওগো জীবন-দেবী।    আমায় দেখে কখন তুমি ফেললে চোখের জল,    আজ বিশ্বজয়ীর বিপুল দেউল তাইতে টলমল!    আজ বিদ্রোহীর এই রক্ত-রথের চূড়ে,    বিজয়িনী!    নীলাম্বরীর আঁচল তোমার উড়ে,    যত তৃণ আমার আজ তোমার মালায় পূরে’,    আমি বিজয়ী আজ নয়ন-জলে ভেসে।

ব্যথা-নিশীথ কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 এই নীরব নিশীথ রাতে    শুধু জল আসে আঁখিপাতে।        কেন কি কথা স্মরণে রাজে?    বুকে কার হতাদর বাজে?    কোন্‌ ক্রন্দন হিয়া-মাঝে    ওঠে গুমরি’ ব্যর্থতাতে    আর জল ভরে আঁখি-পাতে।।        মম বর্থ জীবন-বেদনা    এই নিশীথে লুকাতে নারি,    তাই গোপনে একাকী শয়নে    শুধু নয়নে উথলে বারি।    ছিল সেদিনো এমনি নিশা,    বুকে জেগেছিল শত তৃষা    তারি ব্যর্থ নিশাস মিশা    ওই শিথিল শেফালিকাতে    আর পূরবীতে বেদনাতে।

হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক - কাজী নজরুল ইসলাম

 হিন্দু-মুসলিম দুটি ভাই    ভারতের দুই আঁখি তারা    এক বাগানে দুটি তরু দেবদারু আর কদম চারা।।       যেন গঙ্গা সিন্ধু নদী    যায় গো বয়ে নিরবধি    এক হিমালয় হতে আসে, এক সাগরে হয় গো হারা।।       বুলবুল আর কোকিল পাখী    এক কাননে যায় গো ডাকি,    ভাগীরথী যমুনা বয় মায়ের চোখের যুগল ধারা।।       ঝগড়া করে ভায়ে ভায়ে    এক জননীর কোল লয়ে    মধুর যে এ কলহ ভাই পিঠোপিঠী ভায়ের পারা।।       পেটে ধরা ছেলের চেয়ে চোখে ধরারা মায়া বেশী,    অতিথী ছিল অতীতে, আজ সে সখা প্রতিবেশী।    ফুল পাতিয়ে গোলাপ বেলী    একই মায়ের বুকে খেলি,    পাগলা তা'রা আল্লা ভগবানে ভাবে ভিন্ন যারা।

সাম্যবাদী কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 গাহি সাম্যের গান-    যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান    যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্লিম-ক্রীশ্চান।    গাহি সাম্যের গান!    কে তুমি?- পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো?    কন্ফুসিয়াস্? চার্বআখ চেলা? ব’লে যাও, বলো আরো!    বন্ধু, যা-খুশি হও,    পেটে পিঠে কাঁধে মগজে যা-খুশি পুঁথি ও কেতাব বও,    কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-ত্রিপিটক-    জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থসাহেব প’ড়ে যাও, যত সখ-    কিন্তু, কেন এ পন্ডশ্রম, মগজে হানিছ শূল?    দোকানে কেন এ দর কষাকষি? -পথে ফুটে তাজা ফুল!    তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান,    সকল শাস্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখ নিজ প্রাণ!    তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগাবতার,    তোমার হৃষয় বিশ্ব-দেউল সকল দেবতার।    কেন খুঁজে ফের’ দেবতা ঠাকুর মৃত পুঁথি -কঙ্কালে?    হাসিছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত অন্তরালে!       বন্ধু, বলিনি ঝুট,    এইখানে এসে লুট...

সর্বহারা কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 ব্যথার সাতার-পানি-ঘেরা    চোরাবালির চর,    ওরে পাগল! কে বেঁধেছিস    সেই চরে তোর ঘর?    শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা,    হাট তুলে দে সর্বহারা,    মেঘ-জননীর অশ্রুধারা    ঝ’রছে মাথার’ পর,    দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি    দুলিয়ে তরু-কর।।    কন্যারা তোর বন্যাধারায়    কাঁদছে উতরোল,    ডাক দিয়েছে তাদের আজি    সাগর-মায়ের কোল।    নায়ের মাঝি! নায়ের মাঝি!    পাল তু’লে তুই দে রে আজি    তুরঙ্গ ঐ তুফান-তাজী    তরঙ্গে খায় দোল।    নায়ের মাঝি! আর কেন ভাই?    মায়ার নোঙর তোল্।    ভাঙন-ভরা ভাঙনে তোর    যায় রে বেলা যায়।    মাঝি রে! দেখ্ কুরঙ্গী তোর    কূলের পানে চায়।    যায় চ’লে ঐ সাথের সাথী    ঘনায় গহন শাঙন-রাতি    মাদুর-ভরা কাঁদন পাতি’    ঘুমুস্ নে আর, হায়!    ঐ কাঁদনের বাঁধন ছেঁড়া    এতই কি রে দায়? ...

মোহররম কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া,  ‘আম্মা! লা’ল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া!’    কাঁদে কোন্ ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে,    সে কাঁদনে আঁসু আনে সীমারেরও ছোরাতে!    রুদ্র মাতম্ ওঠে দুনিয়া-দামেশ্ কে-    ‘জয়নালে পরালো এ খুনিয়ারা বেশ কে?’    ‘হায় হায় হোসেনা’,  ওঠে রোল ঝঞ্ঝায়,    তল্ওয়ার কেঁপে ওঠে এজিদেরো পঞ্জায়!    উন্ মাদ ‘দুল্ দুল্’ ছুটে ফেরে মদিনায়,    আদি-জাদা হোসেনের দেখা হেথা যদি পায়!    মা ফতেমা আস্ মানে কাঁদে খুলি কেশপাশ,    বেটাদের লাশ নিয়ে বধূদের শ্বেতবাস!    রণে যায় কাসিম ঐ দু’ঘড়ির নওশা,    মেহেদীর রঙটুকু মুছে গেল সহসা!    ‘হায় হায়’ কাঁদে বায় পূরবী ও দখিনা--    ‘কঙ্কণ পঁইচি খুলে ফেল সকীনা!’    কাঁদে কে রে কোলে ক’রে কাসিমের কাটা-শির?    খান্ খান্ হয়ে ক্ষরে বুক-ফাটা নীর!    কেঁদে গেছে থামি’ হেথা মৃত্যু ও রুদ্র,    বিশ্বের ব্যথা যেন বালিকা এ ক্ষুদ্র!    গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদ...

মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দ্যম - কাজী নজরুল ইসলাস

মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দ্যম    মোরা ঝর্ণার মত চঞ্চল,    মোরা বিধাতার মত নির্ভয়    মোরা প্রকৃতির মত স্বচ্ছল।।    মোরা আকাশের মত বাঁধাহীন    মোরা মরু সঞ্চার বেদুঈন,    বন্ধনহীন জন্ম স্বাধীন    চিত্তমুক্ত শতদল।।    মোরা সিন্ধু জোঁয়ার কলকল    মোরা পাগলা জোঁয়ার ঝরঝর।    কল-কল-কল, ছল-ছল-ছল    মোরা দিল খোলা খোলা প্রান্তর,    মোরা শক্তি অটল মহীধর।    হাসি গান শ্যাম উচ্ছল    বৃষ্টির জল বনফল খাই-    শয্যা শ্যামল বনতল।

পিছু-ডাক কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 সখি!  নতুন ঘরে গিয়ে আমায় প’ড়বে কি আর মনে?   সেথা তোমার নতুন পূজা নতুন আযোজনে!    প্রথম দেখা তোমায় আমায়    যে গৃহ-ছায় যে আঙিনায়,    যেথায় প্রতি ধূলিকণায়,       লতাপাতার সনে   নিত্য চেনার বিত্ত রাজে চিত্ত-আরাধনে,   শূন্য সে ঘর শূন্য এখন কাঁদছে নিরজনে। সেথা  তুমি যখন ভুল্‌তে আমায়, আস্‌ত অনেক কেহ, তখন  আমার হ’য়ে অভিমানে কাঁদত যে ঐ গেহ।    যেদিক পানে চাইতে সেথা    বাজ্‌তে আমার স্মৃতির ব্যথা,    সে গ্লানি আজ ভুলবে হেথা      নতুন আলাপনে।   আমিই শুধু হারিয়ে গেলেম হারিয়ে-যাওয়ার বনে। আমার  এত দিনের দূর ছিল না সত্যিকারের দুর, ওগো  আমার সুদুর ক’রত নিকট ঐ পুরাতন পুর।    এখন তোমার নতুন বাঁধন    নতুন হাসি, নতুন কাঁদন,    নতুন সাধন, গানের মাতন      নতুন আবাহনে।   আমারই সুর হারিয়ে গেল সুদুর পুরাতন। সখি!  আমার আশাই দুরাশা আজ, তোমার বিধির বর, আজ  মোর সমাধির বুকে তোমার উঠবে বাসর-ঘর!   ...

দারিদ্র কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছ মহান।    তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান    কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,    অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;    উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,    বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!    দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস,    অম্লান স্বর্ণেরে মোর করিলে বিরস,    অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ!    শীর্ণ করপুট ভরি’ সুন্দরের দান    যতবার নিতে যাই-হে বুভুক্ষু তুমি    অগ্রে আসি’ কর পান! শূন্য মরুভূমি    হেরি মম কল্পলোক। আমার নয়ন    আমারি সুন্দরে করে অগ্নি বরিষণ!       বেদনা-হলুদ-বৃন্ত কামনা আমার    শেফালির মত শুভ্র সুরভি-বিথার    বিকশি’ উঠিতে চাহে, তুমি হে নির্মম,    দলবৃন্ত ভাঙ শাখা কাঠুরিয়া সম!    আশ্বিনের প্রভাতের মত ছলছল    ক’রে ওঠে সারা হিয়া, শিশির সজল       টলটল ধরণীর মত করুণায়!    তুমি রবি, তব তাপে শুকাইয়া যায়    করুণা-ন...

ছাত্রদলের গান - কাজী নজরুল ইসলাম

 আমরা শক্তি আমরা বল    আমরা ছাত্রদল।    মোদের পায়ের তলায় মূর্ছে তুফান    ঊর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল।    আমরা ছাত্রদল।।       মোদের আঁধার রাতে বাধার পথে    যাত্রা নাঙ্গা পায়,    আমরা শক্ত মাটী রক্তে রাঙাই    বিষম চলার ঘাস।    যুগে যুগে রক্তে মোদের    সিক্ত হ’ল পৃথ্বীতল।    আমরা ছাত্রদল।।       মোদের কক্ষচ্যুত-ধূমকেতু-- প্রায়    লক্ষ্যহারা প্রাণ    আমরা ভাগ্যদেবীর  যজ্ঞবেদীর    নিত্য বলিদান।    যখন লক্ষ্মীদেবী  স্বর্গে উঠেন    আমরা পশি নীল অতল!    আমরা ছাত্রদল।।       আমরা ধরি মৃত্যু রাজার    যজ্ঞ-ঘোড়ার রাশ,    মোদের মৃত্যু লেখে মোদের    জীবন--ইতিহাস!    হাসির দেশে আমরা আনি    সর্বনাশী চোখের জল    আমরা ছাত্রদল।।       সবাই যখন বুদ্ধি যোগায়    আমরা করি ভুল!   ...

কোরবানী কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্য-গ্রহ’ শক্তির উদ্-বোধন!    দুর্ব্বল! ভীরু! চুপ রহো, ওহো খাম্ খা ক্ষুব্ধ মন!    ধ্বনি ওঠে রণি’ দূর বাণীর,--    আজিকার এ খুন কোর্ বানীর!    দুম্বা-শির রুম্-বাসীর    শহীদের শির-সেরা আজি!--রহ্ মান কি রুদ্র নন?    ব্যস্! চুপ খামোশ রোদন!    আজ  শোর ওঠে জোর “খুন দে, জান দে, শির দে বত্স” শোন্!    ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্য-গ্রহ’ শক্তির উদ্ধোধন!       ওরে হত্যা নয় আজ  ‘সত্য-গ্রহ’  শক্তির উদ্ধোধন!    খঞ্জরে মারো গর্দ্দানেই,    পঞ্জরে আজি দরদ্ নেই,    মর্দ্দানীই পর্দ্দা নেই,    ডরতা নেই আজ খুন-খারাবীতে রক্ত-লুব্ধ মন!    খুনে খেল্ বো খুন-মাতন!    দুনো উনমাদনাতে সত্য মুক্তি আন্ তে যুঝবো রণ!    ওরে হত্যা নয়  আজ ‘সত্য-গ্রহ’ শক্তির উদ্ধোধন!       ওরে হত্যা  নয় আজ ‘সত্য-গ্রহ’ শক্তির উদ্ধোধন!    চ’ড়েছে খুন আজ খুনিয়ারার    মুস্ লিমে সারা দুনিয়াট...

কুলি-মজুর কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 দেখিনু সেদিন রেলে,    কুলি ব’লে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে।  চোখ ফেটে এল জল,    এমনি ক’রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?    যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,    বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।    বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!    কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্?    রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে,    রেলপথে চলে বাষ্প-শকট, দেশ ছেয়ে গেল কলে,    বল ত এসব কাহাদের দান! তোমার অট্টালিকা    কার খুনে রাঙা?-ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি ইটে আছে লিখা।    তুমি জান না ক’, কিন্তু পথের প্রতি ধূলিকণা জানে,    ঐ পথ, ঐ জাহাজ, শকট, অট্টালিকার মানে!       আসিতেছে শুভদিন,    দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!    হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,    পাহাড়-কাটা সে পথের দু’পাশে পড়িয়া যাদের হাড়,    তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি, ...

কারার ঐ লৌহকপাট - কাজী নজরুল ইসলাম

 কারার ঐ লৌহকপাট,    ভেঙ্গে ফেল কর রে লোপাট,    রক্ত-জমাট শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।    ওরে ও তরুণ ঈশান,    বাজা তোর প্রলয় বিষাণ    ধ্বংস নিশান উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি।       গাজনের বাজনা বাজা,    কে মালিক, কে সে রাজা,    কে দেয় সাজা মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে?    হা হা হা পায় যে হাসি, ভগবান পরবে ফাঁসি,    সর্বনাশী শিখায় এ হীন তথ্য কে রে!       ওরে ও পাগলা ভোলা,    দে রে দে প্রলয় দোলা,    গারদগুলা জোরসে ধরে হেচকা টানে    মার হাঁক হায়দারী হাঁক, কাধে নে দুন্দুভি ঢাক    ডাক ওরে ডাক, মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে।       নাচে ওই কালবোশাখী,    কাটাবী কাল বসে কি    দেরে দেখি ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি    লাথি মার ভাঙ্গরে তালা,    যত সব বন্দী শালায়-আগুন-জ্বালা, আগুন-জ্বালা,    ফেল উপাড়ি।

কবি রাণী - কাজী নজরুল ইসলাম

তুমি আমায় ভালোবাসো তাই তো আমি কবি।    আমার এ রূপ-সে যে তোমায় ভালোবাসার ছবি।।    আপন জেনে হাত বাড়ালো-    আকাশ বাতাস প্রভাত-আলো,    বিদায়-বেলার সন্ধ্যা-তারা    পুবের অরুণ রবি,-    তুমি ভালোবাস ব’লে ভালোবাসে সবি?       আমার আমি লুকিয়েছিল তোমার ভালোবাসায়,    তুমিই আমার মাঝে আসি’    অসিতে মোর বাজাও বাঁশি,    আমার পূজার যা আয়োজন    তোমার প্রাণের হবি।    আমার বাণী জয়মাল্য, রাণি! তোমার সবি।।       তুমি আমায় ভালোবাস তাই তো আমি কবি।    আমার এ রূপ-সে যে তোমার ভালোবাসার ছবি।

এক আল্লাহ জিন্দাবাদ - কাজী নজরুল ইসলাম

 উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ;    আমরা বলিব সাম্য শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ।    উহারা চাহুক সংকীর্ণতা, পায়রার খোপ, ডোবার ক্লেদ,    আমরা চাহিব উদার আকাশ, নিত্য আলোক, প্রেম অভেদ।       উহারা চাহুক দাসের জীবন, আমরা শহীদি দরজা চাই;    নিত্য মৃত্যু-ভীত ওরা, মোরা মৃত্যু কোথায় খুঁজে বেড়াই!    ওরা মরিবেনা, যুদ্ব বাধিঁলে ওরা লুকাইবে কচুবনে,    দন্তনখরহীন ওরা তবু কোলাহল করে অঙ্গনে।       ওরা নির্জীব; জিব নাড়ে তবু শুধূ স্বার্থ ও লোভবশে,    ওরা জিন, প্রেত, যজ্ঞ, উহারা লালসার পাঁকে মুখ ঘষে।    মোরা বাংলার নব যৌবন,মৃত্যুর সাথে সন্তরী,    উহাদের ভাবি মাছি পিপীলিকা, মারি না ক তাই দয়া করি।       মানুষের অনাগত কল্যাণে উহারা চির অবিশ্বাসী,    অবিশ্বাসীরাই শয়তানী-চেলা ভ্রান্ত-দ্রষ্টা ভুল-ভাষী।    ওরা বলে, হবে নাস্তিক সব মানুষ, করিবে হানাহানি।    মোরা বলি, হবে আস্তিক, হবে আল্লাহ মানুষে জানাজানি।   ...

ওমর ফারুখ কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 তিমির রাত্রি - 'এশা'র আযান শুনি দূর মসজিদে।    প্রিয়-হারা কার কান্নার মতো এ-বুকে আসিয়ে বিঁধে!       আমির-উল-মুমেনিন,    তোমার স্মৃতি যে আযানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন।    তকবির শুনি, শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি,    বাতায়নে চাই-উঠিয়াছে কি-রে গগনে মরুর শশী?    ও-আযান, ও কি পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান?    মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ও কি ও তোমারি সে আহ্ববান?       আবার লুটায়ে পড়ি।    'সেদিন গিয়াছে' - শিয়রের কাছে কহিছে কালের ঘড়ি।    উমর! ফারুক! আখেরি নবীর ওগো দক্ষিণ-বাহু!    আহ্বান নয় - রূপ ধরে এস - গ্রাসে অন্ধতা-রাহু!    ইসলাম-রবি, জ্যোতি তার আজ দিনে দিনে বিমলিন!    সত্যের আলো  নিভিয়া-জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ।    শুধু অঙ্গুলি-হেলনে শাসন করিতে এ জগতের    দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের    ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের ধরি    আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!  ...

আশীর্বাদ কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 আপনার ঘরে আছে যে শত্রু    তারে আগে করো জয়,    ভাঙো সে দেয়াল, প্রদীপের আলো    যাহা আগুলিয়া রয়।    অনাত্বীয়রে আত্বীয় করো,    তোমার বিরাট প্রাণ    করে না কো যেন কোনোদিন কোনো    মানুষে অসম্মান।    সংসারের মিথ্যা বাঁধন    ছিন্ন হোক আগে,    কবে সে তোমার সকল দেউল    রাঙিবে আলোর রাগে।

আনন্দময়ীর আগমনে কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?    স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।    দেব–শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,    ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?    মাদীগুলোর আদি দোষ ঐ অহিংসা বোলনাকি-নাকি    খাঁড়ায় কেটে কর মা বিনাশ নপুংসকের প্রেমের ফাঁকি।    ঢাল তরবার, আন মা সমর, অমর হবার মন্ত্র শেখা,    মাদীগুলোয় কর মা পুরুষ, রক্ত দে মা রক্ত দেখা।    তুই একা আয় পাগলী বেটী তাথৈ তাথৈ নৃত্য করে    রক্ত-তৃষার ‘ময়-ভুখা-হু’র কাঁদন-কেতন কণ্বে ধরে।-    অনেক পাঁঠা-মোষ খেয়েছিস, রাক্ষসী তোর যায়নি ক্ষুধা,    আয় পাষাণী এবার নিবি আপন ছেলেররক্ত-সুধা।    দুর্বলেরে বলি দিয়ে ভীরুর এ হীন শক্তি-পূজা    দূর করে দে, বল মা, ছেলের রক্ত মাগে দশভুজা।    ‘ময় ভুখা হুঁ মায়ি’ বলে আয় এবার আনন্দময়ী    কৈলাশ হতে গিরি-রাণীর মা দুলালীকন্যা অয়ি!

চল্ চল্ চল্ - কাজী নজরুল ইসলাম

 চল্ চল্ চল্।    ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল,    নিম্নে উতলা ধরণী-তল,    অরুণ প্রাতের তরুণ-দল    চলের চলের চল্    চল্ চল্ চল্।    ঊষার দুয়ারে হানি’ আঘাত    আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,    আমরা টুটাব তিমির রাত    বাধার বিন্ধ্যাচল।       নব নবীনের গাহিয়া গান    সজীব করিব মহাশ্মশান,    আমরা দানির নতুন প্রাণ    বাহুতে নবীন বল।    চলের নৌ-জোয়ান,    শোনরে পাতিয়া কান    মৃত্যু-তোরণ দুয়ারে দুয়ারে    জীবনের আহ্বান।

মা কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 যেখানেতে দেখি যাহা    মা-এর মতন আহা    একটি কথায় এত সুধা মেশা নাই,    মায়ের মতন এত    আদর সোহাগ সে তো    আর কোনখানে কেহ পাইবে ভাই!       হেরিলে মায়ের মুখ    দূরে যায় সব দুখ,    মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান,    মায়ের শীতল কোলে    সকল যাতনা ভোলে    কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান।       কত করি উৎপাত    আবদার দিন রাত,    সব স’ন হাসি মুখে, ওরে সে যে মা!    আমাদের মুখ চেয়ে    নিজে র’ন নাহি খেয়ে,    শত দোষী তবু মা তো তাজে না।       ছিনু খোকা এতটুকু,    একটুতে ছোট বুক    যখন ভাঙিয়া যেতো, মা-ই সে তখন    বুকে করে নিশিদিন    আরাম-বিরাম-হীন    দোলা দেয় শুধাতেন, ‘কি হোলো খোকন?’       আহা সে কতই রাতি    শিয়রে জ্বালায়ে বাতি    একটু আসুখ হলে জাগেন মাতা,    সব-কিছু ভুলে গিয়ে ...

খুকি ও কাঠবেড়ালি কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 কাঠবেড়ালি! কাঠবেড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?    গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি-নেবু? লাউ?    বেড়াল-বাচ্চা? কুকুর-ছানা? তাও-    ডাইনি তুমি হোঁৎকা পেটুক,    খাও একা পাও যেথায় যেটুক!    বাতাবি-নেবু সকলগুলো    একলা খেলে ডুবিয়ে নুলো!    তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস পাটুস চাও?    ছোঁচা তুমি! তোমার সঙ্গে আড়ি আমার! যাও!       কাঠবেড়ালি! বাঁদরীমুখী! মারবো ছুঁড়ে কিল?    দেখবি তবে? রাঙাদাকে ডাকবো? দেবে ঢিল!    পেয়ারা দেবে? যা তুই ওঁচা!    তাই তোর নাকটি বোঁচা!    হুতমো-চোখী! গাপুস গুপুস    একলাই খাও হাপুস হুপুস!    পেটে তোমার পিলে হবে! কুড়ি-কুষ্টি মুখে!    হেই ভগবান! একটা পোকা যাস পেটে ওর ঢুকে!    ইস! খেয়ো না মস্তপানা ঐ সে পাকাটাও!    আমিও খুবই পেয়ারা খাই যে! একটি আমায় দাও!       কাঠবেড়ালি! তুমি আমার ছোড়দি' হবে? বৌদি হবে? হুঁ!    রাঙা দিদি? তবে একটা পেয়ারা দাও না! উঃ!   ...

প্রভাতী কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 ভোর হলো দোর খোলো    খুকুমণি ওঠ রে!    ঐ ডাকে যুঁই-শাখে    ফুল-খুকি ছোটরে!    রবি মামা দেয় হামা    গায়ে রাঙা জামা ঐ,    দারোয়ান গায় গান    শোন ঐ, রামা হৈ!’    ত্যাজি নীড় করে ভিড়    ওড়ে পাখি আকাশে    এন্তার গান তার    ভাসে ভোর বাতাসে।    চুলবুল বুলবুল    শিস্ দেয় পুষ্পে,    এইবার এইবার    খুকুমণি উঠবে!    খুলি হাল তুলি পাল    ঐ তরী চললো,    এইবার এইবার    খুকু চোখ খুললো।    আলসে নয় সে    ওঠে রোজ সকালে    রোজ তাই চাঁদা ভাই    টিপ দেয় কপালে।    উঠলো ছুটলো ওই    খোকা খুকি সব,   ”উঠেছে আগে কে”    ঐ শোনো কলরব।    নাই রাত মুখ হাত    ধোও, খুকু জাগো রে!    জয়গানে ভগবানে    তুষি’ বর মাগো রে।

খোকার সাধ কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 আমি হব সকাল বেলার পাখি    সবার আগে কুসুম-বাগে উঠব আমি ডাকি।    সূয্যিমামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে,    ‘হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’- মা বলবেন রেগে।    বলব আমি, ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাক,    হয়নি সকাল- তাই বলে কি সকাল হবে না ক?    আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?    তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!’    ঊষা দিদির ওঠার আগে উঠব পাহাড়-চূড়ে,    দেখব নিচে ঘুমায় শহর শীতের কাঁথা মুড়ে,    ঘুমায় সাগর বালুচরে নদীর মোহনায়,    বলব আমি ‘ভোর হল যে, সাগর ছুটে আয়!    ঝর্ণা মাসি বলবে হাসি’, ‘খোকন এলি নাকি?’    বলব আমি নই কো খোকন, ঘুম-জাগানো পাখি!’    ফুলের বনে ফুল ফোটাব, অন্ধকারে আলো,    সূয্যিমামা বলবে উঠে, ‘খোকন, ছিলে ভাল?’    বলব ‘মামা, কথা কওয়ার নাই ক সময় আর,    তোমার আলোর রথ চালিয়ে ভাঙ ঘুমের দ্বার।’    রবির আগে চলব আমি ঘুম-ভাঙা গান গেয়ে,    জাগবে সাগর, পাহাড় নদী, ঘুমের ছেলেমেয়ে!

গোপন প্রিয়া কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 পাইনি ব’লে আজো তোমায় বাসছি ভালো, রাণি,    মধ্যে সাগর, এ-পার ও-পার করছি কানাকানি!    আমি এ-পার, তুমি ও-পার,    মধ্যে কাঁদে বাধার পাথার    ও-পার হ’তে ছায়া-তরু দাও তুমি হাত্ছানি,    আমি মরু, পাইনে তোমার ছায়ার ছোঁওয়াখানি।       নাম-শোনা দুই বন্ধু মোরা, হয়নি পরিচয়!    আমার বুকে কাঁদছে আশা, তোমার বুকে ভয়!    এই-পারী ঢেউ বাদল-বায়ে    আছড়ে পড়ে তোমার পায়ে,    আমার ঢেউ-এর দোলায় তোমার ক’রলো না কূল ক্ষয়,    কূল ভেঙেছে আমার ধারে-তোমার ধারে নয়!       চেনার বন্ধু, পেলাম না ক’ জানার অবসর।    গানের পাখী ব’সেছিলাম দু’দিন শাখার’ পর।    গান ফুরালো যাব যবে    গানের কথাই মনে রবে,    পাখী তখন থাকবো না ক’-থাকবে পাখীর ঘর,    উড়ব আমি,-কাঁদবে তুমি ব্যথার বালুচর!       তোমার পারে বাজল কখন আমার পারের ঢেউ,    অজানিতা! কেউ জানে না, জানবে না ক’ কেউ।    উড়তে গিয়ে পাখা হ’তে    এ...

অভিশাপ কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,    অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে –    বুঝবে সেদিন বুঝবে!    ছবি আমার বুকে বেঁধে    পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে    ফিরবে মরু কানন গিরি,    সাগর আকাশ বাতাস চিরি’    যেদিন আমায় খুঁজবে –    বুঝবে সেদিন বুঝবে!       স্বপন ভেঙ্গে নিশুত রাতে, জাগবে হঠাৎ চমকে    কাহার যেন চেনা ছোয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে-    জাগবে হঠাৎ ছমকে,    ভাববে বুঝি আমিই এসে    বসনু বুকের কোলটি ঘেষে    ধরতে গিয়ে দেখবে যখন    শুন্য শয্যা মিথ্যা স্বপন    বেদনাতে চোখ বুজবে-    বুঝবে সেদিন বুঝবে!       গাইতে ব’সে কন্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না,    ব’লবে সবাই – সেই যে পথিক, তার শেখানো গান না?    আসবে ভেঙে কান্না!    প’ড়বে মনে আমার সোহাগ,    কন্ঠে তোমার কাঁদবে বেহাগ!    প’ড়বে মনে অনেক ফাঁকি    অশ্রু-হারা কঠিন আঁখি    ঘন ঘন মুছবে – ...

নারী কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 সাম্যের গান গাই-   আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!   বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,   অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।   বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি,   অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।   নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’ করে নারী হেয়-জ্ঞান?   তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।   অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,   ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।   এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,   নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল।   তাজমহলের পাথর দেখেছ, দেখিয়াছে যত ফল,   অন্তরে তার মোমতাজ নারী, বাহিরেতে শা-জাহান।   জ্ঞানের লক্ষ্মী, গানের লক্ষ্মী, শস্য লক্ষ্মী নারী,   সুষমা-লক্ষ্মী নারীই ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারি’।   পুরুষ এনেছে যামিনী-শানি-, সমীরণ, বারিবাহ!   দিবসে দিয়াছে শক্তি সাহস, নিশীতে হ’য়েছে বধূ,   পুরুষ এসেছে মরুতৃষা ল’য়ে, নারী যোগায়েছে মধু।   শস্যক্ষেত্র উর্বর হ’ল, পুরুষ চালাল হাল,   নারী সেই মাঠে শস্য রোপিয়া করিল স...

লিচু চোর কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 বাবুদের তাল-পুকুরে   হাবুদের ডাল-কুকুরে   সে কি বাস করলে তাড়া,   বলি থাম একটু দাড়া।       পুকুরের ঐ কাছে না   লিচুর এক গাছ আছে না   হোথা না আস্তে গিয়ে   য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে   গাছে গো যেই চড়েছি   ছোট এক ডাল ধরেছি,       ও বাবা মড়াত করে   পড়েছি সরাত জোরে।   পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,   সে ছিল গাছের আড়েই।   ব্যাটা ভাই বড় নচ্ছার,   ধুমাধুম গোটা দুচ্চার   দিলে খুব কিল ও ঘুষি   একদম জোরসে ঠুসি।       আমিও বাগিয়ে থাপড়   দে হাওয়া চাপিয়ে কাপড়   লাফিয়ে ডিঙনু দেয়াল,   দেখি এক ভিটরে শেয়াল!   ও বাবা শেয়াল কোথা   ভেলোটা দাড়িয়ে হোথা   দেখে যেই আঁতকে ওঠা   কুকুরও জাড়লে ছোটা!   আমি কই কম্ম কাবার   কুকুরেই করবে সাবাড়!       ‘বাবা গো মা গো’ বলে   পাঁচিলের ফোঁকল গলে   ঢুকি গিয়ে বোসদের ঘরে,   যেন প্রাণ আসলো ধড়ে!       যাব ফের? কান মলি ভাই,   চুরিতে আর যদি যাই!   তবে...

'বিদ্রোহী' কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 বল বীর –   বল উন্নত মম শির!   শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!   বল বীর –   বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’   চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’   ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া   খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,   উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!   মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!   বল বীর –   আমি চির উন্নত শির!        আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,   মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!   আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,   আমি দুর্বার,   আমি ভেঙে করি সব চুরমার!   আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,   আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!   আমি মানি না কো কোন আইন,   আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!   আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর   আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!   বল বীর –   চির-উন্নত মম শির!        আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি,   আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’...

আপন পিয়াসী কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম

 আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন   খুঁজি তারে আমি আপনার,   আমি শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি   আমারি তিয়াসী বাসনায়।।        আমারই মনের তৃষিত আকাশে   কাঁদে সে চাতক আকুল পিয়াসে,   কভু সে চকোর সুধা-চোর আসে   নিশীথে স্বপনে জোছনায়।।        আমার মনের পিয়াল তমালে হেরি তারে স্নেহ-মেঘ-শ্যাম,   অশনি-আলোকে হেরি তারে থির-বিজুলি-উজল অভিরাম।।   আমারই রচিত কাননে বসিয়া   পরানু পিয়ারে মালিকা রচিয়া,   সে মালা সহসা দেখিনু জাগিয়া,   আপনারি গলে দোলে হায়।

কান্ডারি হুশিয়ার কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম ||kobitar jagot

 দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার   লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার!        দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,   ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?   কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ।   এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।        তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!   যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।   ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,   ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।        অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন   কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন।   হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?   কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার        গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ,   পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ!   কান্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?   করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার!        ...

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে - কাজী নজরুল ইসলাম

 আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে-   মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে   আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।        আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে-   বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার -ভাঙা কল্লোলে।   আসল হাসি, আসল কাঁদন   মুক্তি এলো, আসল বাঁধন,   মুখ ফুটে আজ বুক ফাটে মোর তিক্ত দুখের সুখ আসে।   ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে-   আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!        আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ   সৃষ্টি-ছাড়া বুক-ফাটা শ্বাস,   ফুললো সাগর দুললো আকাশ ছুটলো বাতাস,   গগন ফেটে চক্র ছোটে, পিণাক-পাণির শূল আসে!   ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে   চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে,        আজ তাই দেখি আর বক্ষে আমার লক্ষ বাগের ফুল হাসে   আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!   আজ হাসল আগুন, শ্বসল ফাগুন,   মদন মারে খুন-মাখা তূণ   পলাশ অশোক শিমুল ঘায়েল   ফাগ লাগে ঐ দিক-বাসে   গো দিগ বালিকার পীতবাসে;        আজ রঙ্গন এলো রক্তপ্রাণের অঙ্গনে মোর চারপাশে   আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!  ...